বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি দেশ নিয়ে কথা বলতে এসেছি, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন মন মুগ্ধ করে তোলে, তেমনই এর অর্থনীতি নিয়ে আমরা অনেকেই হয়তো গভীরভাবে ভাবি না। হ্যাঁ, আমি জাম্বিয়ার কথা বলছি। এই মুহূর্তে জাম্বিয়ার বেকারত্বের পরিস্থিতি ঠিক কেমন, আর কেনই বা এটি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, তা নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। যখন আমরা নিজেদের চারপাশে চাকরির বাজারের টানাপোড়েন দেখি, তখন জাম্বিয়ার মতো একটি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে, যখন শুনি একটি দেশ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বিনিয়োগের পথ খুঁজছে, তখন প্রশ্ন জাগে, এই বিনিয়োগ কি সত্যিই কর্মসংস্থান বাড়াতে সাহায্য করছে?
আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক সময় তথ্যগুলো আমাদের সামনে পরিষ্কার থাকে না, আর সেখানেই ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। তাহলে চলুন, নিচের লেখায় জাম্বিয়ার বেকারত্ব সমস্যার পেছনের কারণগুলো এবং এর সম্ভাব্য সমাধানগুলো আমরা আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নিই, যেখানে থাকছে একদম সাম্প্রতিক কিছু তথ্য এবং দারুণ সব বিশ্লেষণ!
জাম্বিয়ার চাকরির বাজারের হালচাল: আমাদের তরুণদের জন্য কতটা কঠিন?

সত্যি বলতে কী, জাম্বিয়ার চাকরির বাজারটা যেন একটা রোলার কোস্টারের মতো। মাঝেমধ্যে মনে হয় পরিস্থিতি একটু ভালো হচ্ছে, আবার পরক্ষণেই দেখি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমার নিজের চারপাশে অনেক তরুণকে দেখেছি, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও একটা ভালো চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। এই যে হতাশা, এটা শুধু তাদের একার নয়, পুরো সমাজকেই যেন গ্রাস করে ফেলছে। সাম্প্রতিক তথ্যগুলো দেখলে এই ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাম্বিয়ার সার্বিক বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.৯১ শতাংশে। এই সংখ্যাটা শুনতে হয়তো খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু যখন আমরা এর ভেতরের দিকে তাকাই, তখন আসল চিত্রটা বেরিয়ে আসে। দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ, প্রায় ৭.১৭ মিলিয়ন মানুষ, প্রতিনিয়ত এই চাকরির বাজারে নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেকেই পড়ে যাচ্ছেন এক গভীর অনিশ্চয়তায়।
সাম্প্রতিক বেকারত্বের চিত্র
২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাম্বিয়ার বেকারত্বের হার ৫.৯১% হলেও, এই সংখ্যাটি সামগ্রিক পরিস্থিতির একটা অংশ মাত্র। আমরা যদি যুব বেকারত্বের দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো যে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। তরুণ প্রজন্ম, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৯.৭৬%। আমার তো মনে হয়, এই সংখ্যাটা বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে, কারণ গ্রামের দিকে বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অনেক তথ্যই হয়তো ঠিকভাবে উঠে আসে না। বিশেষ করে, যখন আমি দেখি পড়ালেখা শেষ করে আসা ছেলেমেয়েরা তাদের যোগ্যতানুযায়ী কাজ পাচ্ছে না, তখন বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। তাদের চোখে মুখে যে স্বপ্ন দেখি, সেই স্বপ্নগুলো ফিকে হয়ে যেতে দেখলে সত্যি মন খারাপ হয়। পুরুষদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫.৬৬% আর নারীদের মধ্যে ৬.২২%। এর মানে হলো, নারীরাও চাকরির বাজারে পিছিয়ে নেই, তবে তাদের চ্যালেঞ্জগুলো পুরুষদের থেকে কিছুটা ভিন্ন। এই পরিস্থিতিটা শুধু একটা পরিসংখ্যান নয়, এটা হাজারো মানুষের জীবনের গল্প, তাদের লড়াই আর স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা।
যুবকদের উপর চাপ
জাম্বিয়ার তরুণদের উপর বেকারত্বের চাপটা আসলে কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি। একটা সময় ছিল যখন পড়ালেখা শেষ করলে একটা সম্মানজনক চাকরির স্বপ্ন দেখা যেত। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নটা যেন দিন দিন আরও ধূসর হয়ে যাচ্ছে। আমার পরিচিত অনেকেই আছেন যারা ভালো ফল করেও শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার অভাবে বা সঠিক সুযোগের অভাবে বেকার বসে আছেন। এই যুব বেকারত্বের হার প্রায় ৯.৭৬%, যা দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের চেয়ে অনেক বেশি। এর পেছনের কারণগুলো খুবই জটিল। এক দিকে যেমন পর্যাপ্ত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, তেমনি অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থা আর শিল্পের চাহিদার মধ্যে একটা বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে। তরুণরা এমন দক্ষতা নিয়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে, যা বর্তমান শ্রমবাজারে খুব একটা কাজে আসছে না। ফলে তারা যেমন হতাশ হচ্ছে, তেমনি দেশও তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, অর্থাৎ তরুণ মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে পারছে না। এই চাপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটা সামাজিক এবং মানসিক চাপও বটে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে তুলছে।
জাম্বিয়ার শ্রমবাজারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (২০২৩)
| সূচক | মান | একক |
|---|---|---|
| সর্বশেষ বেকারত্বের হার | ৫.৯১ | শতাংশ |
| যুব বেকারত্বের হার | ৯.৭৬ | শতাংশ |
| নারী বেকারত্বের হার | ৬.২২ | শতাংশ |
| পুরুষ বেকারত্বের হার | ৫.৬৬ | শতাংশ |
| শ্রমশক্তি | ৭.১৭ | মিলিয়ন মানুষ |
কেন এমন পরিস্থিতি? মূল কারণগুলো এক নজরে
জাম্বিয়ার বেকারত্বের সমস্যাটা কোনো এক রাতের ব্যাপার নয়, এর পেছনে আছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কিছু গভীর সমস্যা। যখন আমি জাম্বিয়ার অর্থনীতির দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি যে দেশের উন্নতি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফলটা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আমাদের চারপাশে এমন অনেক দেশ আছে যারা নিজেদের অর্থনীতিকে নানাভাবে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে, কিন্তু জাম্বিয়া এখনও তার পুরোনো কিছু পদ্ধতির উপর বড্ড বেশি নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা একদিকে যেমন সুবিধা এনে দেয়, তেমনি অন্যদিকে যখন সেই খাতগুলো দুর্বল হয়, তখন পুরো দেশটাই সংকটে পড়ে। আমার মনে হয়, আমাদের নিজেদের ভুলগুলো থেকেই শিক্ষা নিতে হবে এবং নতুন পথের সন্ধান করতে হবে।
অর্থনীতির সীমিত বৈচিত্র্য
জাম্বিয়ার অর্থনীতির একটি বড় দুর্বলতা হলো এর সীমিত বৈচিত্র্য। আপনারা জানেন, জাম্বিয়ার অর্থনীতি প্রধানত খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে তামার উপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। এই খনি খাত দেশের জন্য প্রচুর রাজস্ব এনে দেয় ঠিকই, কিন্তু সমস্যা হলো, এটি খুব বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে না। আধুনিক খনিগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার এত বেশি যে সেখানে হাতে গোনা কিছু দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, সাধারণ মানুষের জন্য কাজের সুযোগ খুব কম। আমি মনে করি, এই একমুখী অর্থনীতির কারণে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম ওঠানামা করে, তখন দেশের অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। আর এর প্রথম শিকার হয় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, যারা চাকরি হারানোর ভয়ে দিন গোনে। আমার তো মনে হয়, কৃষি, পর্যটন বা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো খাতগুলোতে যদি আরও বেশি বিনিয়োগ করা যেত, তাহলে হয়তো অনেক বেশি মানুষের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেত। শুধু তামার উপর নির্ভর করে একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, যা এখন আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মবাজারের মধ্যে ফারাক
আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, জাম্বিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা এবং বর্তমান শ্রমবাজারের মধ্যে একটা বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে। ছেলেমেয়েরা বছরের পর বছর পড়ালেখা করছে, ডিগ্রি অর্জন করছে, কিন্তু বাজারে যে ধরনের দক্ষতার চাহিদা আছে, তার সাথে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মিল থাকছে না। ধরুন, অনেক কোম্পানি হয়তো ডিজিটাল মার্কেটিং বা ডেটা অ্যানালিটিক্সে দক্ষ লোক খুঁজছে, কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা সেই বিষয়ে খুব একটা জ্ঞান নিয়ে বের হচ্ছে না। এতে কী হচ্ছে? একদিকে নিয়োগকর্তারা যোগ্য লোক পাচ্ছে না, অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণরা বেকার বসে থাকছে। আমার মনে হয়, এই সমস্যাটা এতটাই গভীর যে এর সমাধানের জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা দরকার। এমন শিক্ষা দেওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে, শুধু কিছু তত্ত্ব মুখস্থ করাবে না। হাতে কলমে কাজ শেখার সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করানো—এগুলো এখন সময়ের দাবি। এই ফারাকটা কমিয়ে আনতে না পারলে, আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ চিন্তিত।
বেকারত্বের সুদূরপ্রসারী প্রভাব: ব্যক্তি থেকে অর্থনীতি পর্যন্ত
বেকারত্ব শুধু একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটা একটা সামাজিক ব্যাধি, যা ধীরে ধীরে পুরো সমাজ এবং দেশের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। যখন দেখি একজন তরুণ তার মেধা আর শ্রম দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, তখন তার চোখে যে হতাশা দেখি, তা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। এটা শুধু তার ব্যক্তিগত দুঃখ নয়, তার পরিবার, তার সমাজ, এমনকি পুরো দেশের জন্য একটা বড় ক্ষতি। আমার তো মনে হয়, বেকারত্ব শুধু রুটি-রুজির সমস্যা নয়, এটা মানুষের আত্মসম্মান, স্বপ্ন এবং বেঁচে থাকার ইচ্ছাকেও কেড়ে নেয়। যখন আমি দেখি একজন মানুষ দিনের পর দিন কাজ খুঁজে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন তার মানসিক অবস্থাটা কী হতে পারে, সেটা ভেবেই আমার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
সামাজিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত দুর্দশা
বেকারত্বের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে ব্যক্তির জীবনে এবং সমাজে। যখন একজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকে, তখন তার মধ্যে এক ধরনের হতাশা, বিষণ্ণতা আর একাকীত্ব বাসা বাঁধে। পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, অশান্তি বাড়ে, সম্পর্কে ফাটল ধরে। আমার পরিচিত একজন বন্ধু ছিল, পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল, কিন্তু একটা ভালো চাকরি না পেয়ে সে ধীরে ধীরে সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল। তার চোখে আমি যে অবসাদ দেখেছিলাম, সেটা ভোলার মতো নয়। বেকারত্ব বাড়লে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে, কারণ পেটের দায়ে মানুষ অনেক সময় ভুল পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়। মাদকাসক্তি, চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাগুলো বেড়ে যায়, যা সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করে। দেশের যুব সমাজের মধ্যে এই হতাশা ছড়িয়ে পড়লে তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা কোনো দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা
জাম্বিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বেকারত্ব একটি বড় অভিশাপ, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। যখন কর্মক্ষম মানুষ কাজ পায় না, তখন দেশের উৎপাদনশীলতা কমে যায়, মাথাপিছু আয় হ্রাস পায় এবং দারিদ্র্য আরও জেঁকে বসে। আমি মনে করি, এটা একটা দুষ্টচক্রের মতো। বেকারত্বের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, ফলে বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে আসে, যা আবার নতুন করে বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। সরকারকেও বেকার ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা উন্নয়নের অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ কমিয়ে দেয়। দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাটা অত্যাবশ্যক। তা না হলে আমরা যতই বিনিয়োগের কথা বলি না কেন, তার সুফল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না, আর অর্থনৈতিক উন্নতিও থমকে থাকবে।
উত্তরণের পথ কোথায়? সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
আমরা জানি, সমস্যা থাকলে তার সমাধানও থাকে। জাম্বিয়ার বেকারত্ব সমস্যার সমাধান রাতারাতি হবে না, কিন্তু যদি সঠিক পরিকল্পনা আর ইচ্ছাশক্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। আমার তো মনে হয়, সরকার একা সব কিছু করতে পারবে না, এর জন্য দরকার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শুধু বড় বড় শিল্প গড়ে তুললেই হবে না, দেশের ভেতরে ছোট ছোট উদ্যোগকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, কোন খাতে অল্প বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, আর সেই দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ
আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SMEs) জাম্বিয়ার বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের জন্য একটা শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। বড় শিল্পগুলো যে পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয় এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে। গ্রামের দিকে বা ছোট শহরগুলোতে এই ধরনের শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, এবং কর্মসংস্থানের জন্য মানুষকে আর শহরমুখী হতে হবে না। আমি দেখেছি, অনেক দেশেই স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পায়, আর এতে করে উদ্যোক্তারাও উৎসাহ পান। সরকারের উচিত এই খাতকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া, যেমন— সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণে সাহায্য করা। আমার তো মনে হয়, ছোট ছোট ব্যবসার বিকাশে যদি আমরা গুরুত্ব দেই, তাহলে অনেক তরুণ নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে এবং আরও দশজনের কাজের সুযোগ করে দেবে। এতে করে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়বে এবং বেকারত্বের হারও কমবে।
কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত

জাম্বিয়া একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের কৃষি খাত এখনও তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি। এই খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ করে এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অনেক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। আমার তো মনে হয়, শুধু শস্য উৎপাদন নয়, পশুপালন, মৎস্য চাষ এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠলে একদিকে যেমন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন, তেমনি অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় অনেক মানুষের কাজের সুযোগ হবে। এতে করে গ্রামের মানুষের আয় বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং শহরমুখী মানুষের চাপও কমবে। কৃষিকে শুধুমাত্র জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম না ভেবে একটি লাভজনক শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার সময় এসেছে, আর এর মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ: ভবিষ্যতের চাবিকাঠি
আমরা সবাই জানি, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা দিয়ে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনা দরকার, যা শিক্ষার্থীদেরকে শুধু ডিগ্রিধারী না বানিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করবে। এখনকার দিনে চাকরির বাজারে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ দেখলেই হয় না, প্রার্থীর ব্যবহারিক দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টা আমরা যত দ্রুত উপলব্ধি করতে পারবো, তত দ্রুত আমাদের তরুণদের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।
বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব
আজকের দিনে চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়, হাতে কলমে কাজ জানাটা ভীষণ জরুরি। তাই আমার মনে হয়, জাম্বিয়ার জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বা ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ইলেকট্রিশিয়ান, মেকানিক, ওয়েল্ডার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার বা গ্রাফিক ডিজাইনারের মতো দক্ষ পেশাজীবীর চাহিদা এখন অনেক বেশি। সরকার যদি এই ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ায় এবং সেগুলো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করে, তাহলে অনেক তরুণ অল্প সময়ের মধ্যে দক্ষতা অর্জন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে। আমি দেখেছি, যেসব দেশে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে কম। আমার তো মনে হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুধু দেশের অর্থনীতিই শক্তিশালী হবে না, বরং প্রতিটি পরিবারেও আসবে সচ্ছলতা।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে জোর
বর্তমানে আমরা এক ডিজিটাল যুগে বাস করছি, যেখানে প্রযুক্তি ছাড়া এক পাও চলা কঠিন। জাম্বিয়ার চাকরির বাজারেও প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। আমার মনে হয়, আমাদের তরুণদের মধ্যে যদি প্রযুক্তিগত জ্ঞান আর উদ্ভাবনী চিন্তা বাড়ানো যায়, তাহলে তারা শুধু চাকরি প্রার্থী না হয়ে চাকরি সৃষ্টিকারী হয়ে উঠতে পারে। সরকার যদি স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা দেয়, নতুন নতুন প্রযুক্তি শেখার সুযোগ তৈরি করে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করে, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে একটা নতুন ঢেউ আসতে পারে। আমি দেখেছি, বিশ্বের অনেক দেশেই ছোট ছোট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। জাম্বিয়ার তরুণদের মধ্যেও যে অপার সম্ভাবনা আছে, তাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
বিদেশী বিনিয়োগের হাতছানি: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ
জাম্বিয়ার অর্থনীতির উন্নতির জন্য বিদেশী বিনিয়োগের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিদেশী বিনিয়োগ নতুন প্রযুক্তি, পুঁজি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আসে। কিন্তু শুধু বিনিয়োগ এলেই হবে না, সেই বিনিয়োগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যেন তার সুফল দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। আমি দেখেছি, অনেক সময় বিনিয়োগ আসে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো এমন খাতে যায় যা খুব বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে না, বা স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতার অভাবে তারা সেই সুযোগগুলো নিতে পারে না।
বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান
জাম্বিয়া তার প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য পরিচিত, যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার একটি বড় কারণ। কিন্তু শুধু খনি খাতে বিনিয়োগের উপর নির্ভর না করে, সরকার যদি অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করে, তাহলে কর্মসংস্থানের একটা নতুন দুয়ার খুলবে। যেমন, পর্যটন খাত, নবায়নযোগ্য শক্তি বা ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে যদি বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তাহলে অনেক বেশি মানুষের কাজের সুযোগ হবে। আমার মনে হয়, বিনিয়োগকারীদের জন্য একটা স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাটা খুবই জরুরি। আইনগত স্বচ্ছতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ব্যবসা করার সহজ সুযোগ তৈরি করতে পারলে আরও বেশি বিনিয়োগকারী জাম্বিয়ার দিকে আকৃষ্ট হবে। আর এই বিনিয়োগ যখন নতুন কারখানা, হোটেল বা প্রযুক্তিকেন্দ্র তৈরি করবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই হাজার হাজার মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ
বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যতটা জরুরি, তার চেয়েও বেশি জরুরি হলো সেই বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। আমার তো মনে হয়, শুধু বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দেখলেই হবে না, দেখতে হবে এই বিনিয়োগ দেশের মানুষের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনছে। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে কিনা, স্থানীয় শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে কিনা, এবং পরিবেশের উপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কিনা – এসব দিকে নজর রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটা কার্যকর সমন্বয় থাকা দরকার, যাতে বিনিয়োগগুলো দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এতে করে আমরা শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিই দেখবো না, বরং আমাদের তরুণ প্রজন্মও তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারবে, যা আমাদের সবার স্বপ্ন।
글을 마치며
বন্ধুরা, জাম্বিয়ার বেকারত্ব নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা আশা করি আপনাদের ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই সমস্যাটা শুধু কিছু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটা হাজার হাজার মানুষের জীবন আর স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, যখন আমরা সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে বুঝতে পারি, তখনই তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সহজ হয়। সরকারের পাশাপাশি আমাদের প্রত্যেকেরও কিছু দায়িত্ব আছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়। ক্ষুদ্র উদ্যোগকে সমর্থন করা, স্থানীয় পণ্য কেনা, বা আমাদের তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করা—এগুলো ছোট ছোট পদক্ষেপ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। আসুন, সবাই মিলে একটি উজ্জ্বল জাম্বিয়ার স্বপ্ন দেখি, যেখানে প্রতিটি তরুণ তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারবে।
알া두তে 쓸মো ইনোফোরমাসিওন
১. জাম্বিয়ার অর্থনীতিতে তামার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেকারত্বের একটি প্রধান কারণ। এর ফলে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম কমে যায়, তখন দেশের অর্থনীতিতে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা কর্মসংস্থানের উপরও চাপ সৃষ্টি করে। আমার মনে হয়, এই একমুখী নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে হলে আরও বেশি বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজন। দেশের অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প ক্ষেত্র তৈরি করতে পারলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং আরও অনেক মানুষের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
২. শিক্ষাব্যবস্থা এবং শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে একটি বিশাল ফারাক জাম্বিয়ার তরুণদের বেকারত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রায়শই এমন দক্ষতা তৈরি করছে না যা আজকের চাকরির বাজারে প্রয়োজন। এতে করে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা শেষ করেও উপযুক্ত কাজ পাচ্ছে না। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এই সমস্যা সমাধানের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো জরুরি, যাতে তরুণরা প্রযুক্তিনির্ভর এবং চাহিদা সম্পন্ন দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
৩. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SMEs) জাম্বিয়ার কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বড় শিল্পের চেয়ে এই ধরনের ছোট উদ্যোগগুলো অনেক বেশি মানুষের জন্য কাজ তৈরি করে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে। সরকারের উচিত সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণে সহায়তার মাধ্যমে এই খাতকে আরও উৎসাহিত করা। আমি বিশ্বাস করি, যদি ছোট উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো হয়, তাহলে তারা শুধু নিজেদের নয়, আরও অনেক মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সাহায্য করবে।
৪. কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগ জাম্বিয়ার বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হতে পারে। জাম্বিয়া একটি কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এই খাতকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। উন্নত বীজ, সার এবং আধুনিক চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো গেলে এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠলে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন, তেমনি অন্যদিকে শহরের উপর কর্মসংস্থানের চাপ কমবে।
৫. বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি সেই বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ শুধু এলে হবে না, দেখতে হবে তা স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে কিনা, শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে কিনা এবং পরিবেশের উপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিনা। আমার মতে, সরকার এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি স্বচ্ছ এবং কার্যকর অংশীদারিত্ব দরকার, যা নিশ্চিত করবে যে এই বিনিয়োগগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো
আজকের আলোচনা থেকে আমরা জাম্বিয়ার বেকারত্ব সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বললাম। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সাথে গভীরভাবে জড়িত একটি জটিল চ্যালেঞ্জ। মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতির সীমিত বৈচিত্র্য, যেখানে তামা খাতের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা প্রকট। অন্যদিকে, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে যে বিশাল ফারাক, তা তরুণদের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে। এর ফলে সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত জীবনে দেখা দিচ্ছে চরম হতাশা।
তবে আশার কথা হলো, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগ—এই সবগুলোই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করা ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে গ্রহণ করা গেলে জাম্বিয়ার বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে আমরা একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারবো এবং প্রতিটি তরুণ তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি দেশ নিয়ে কথা বলতে এসেছি, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন মন মুগ্ধ করে তোলে, তেমনই এর অর্থনীতি নিয়ে আমরা অনেকেই হয়তো গভীরভাবে ভাবি না। হ্যাঁ, আমি জাম্বিয়ার কথা বলছি। এই মুহূর্তে জাম্বিয়ার বেকারত্বের পরিস্থিতি ঠিক কেমন, আর কেনই বা এটি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, তা নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। যখন আমরা নিজেদের চারপাশে চাকরির বাজারের টানাপোড়েন দেখি, তখন জাম্বিয়ার মতো একটি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে, যখন শুনি একটি দেশ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বিনিয়োগের পথ খুঁজছে, তখন প্রশ্ন জাগে, এই বিনিয়োগ কি সত্যিই কর্মসংস্থান বাড়াতে সাহায্য করছে?
আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক সময় তথ্যগুলো আমাদের সামনে পরিষ্কার থাকে না, আর সেখানেই ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। তাহলে চলুন, নিচের লেখায় জাম্বিয়ার বেকারত্ব সমস্যার পেছনের কারণগুলো এবং এর সম্ভাব্য সমাধানগুলো আমরা আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নিই, যেখানে থাকছে একদম সাম্প্রতিক কিছু তথ্য এবং দারুণ সব বিশ্লেষণ!
A1: আমার নিজের চোখে দেখা বা বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক হালচাল পর্যবেক্ষণ করে আমি বলতে পারি, জাম্বিয়ার বেকারত্বের পরিস্থিতি এখন বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে আমাদের মতো তরুণ প্রজন্মের জন্য এটা সত্যিই একটা উদ্বেগের কারণ। আমার মনে হয়, সরকারি তথ্য যা-ই বলুক না কেন, বাস্তবে অনেক তরুণ-তরুণীই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না, কিংবা একদমই বেকার বসে আছেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে যখন চাকরির বাজারে নামি, তখন মনে হয় যেন একটা অদৃশ্য দেয়াল আমাদের পথ আটকে দিচ্ছে। যদিও জাম্বিয়া একটি সম্ভাবনাময় দেশ, কিন্তু শিল্প ও সেবা খাতের বৃদ্ধি এখনো সেই গতিতে হয়নি, যা কিনা প্রতি বছর অসংখ্য কর্মপ্রত্যাশীকে কাজের সুযোগ দিতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, খনি শিল্প বা কৃষির মতো ঐতিহ্যবাহী কিছু খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, কিন্তু সেখানেও আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শ্রমিকের চাহিদা কমে আসছে। আর শহরের দিকে মাইগ্রেশন করে আসা তরুণদের ভিড় তো আছেই, যারা স্বপ্ন দেখে একটা ভালো চাকরির, কিন্তু সীমিত সুযোগের কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই সমস্যাটা শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, এটা হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের সাথে জড়িত একটা গভীর মানবিক সংকট।
A2: আমার এতদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, জাম্বিয়ার বেকারত্বের পেছনে কয়েকটা বড় কারণ কাজ করে। প্রথমত, অর্থনীতির বৈচিত্র্য কম। ধরুন, একটা দেশের অর্থনীতি যদি শুধু কয়েকটা খাতের উপর নির্ভরশীল হয়, যেমন জাম্বিয়ার ক্ষেত্রে তামা খনি, তাহলে সেই খাতগুলোতে সমস্যা হলে পুরো অর্থনীতিতেই তার প্রভাব পড়ে। আর যখন খনি শিল্পের উৎপাদন কমে বা বিশ্ববাজারে দাম পড়ে, তখন অনেক শ্রমিক ছাঁটাই হন, আর নতুন করে কাজের সুযোগও তৈরি হয় না। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ব্যবস্থা আর চাকরির বাজারের চাহিদার মধ্যে একটা বড় ফারাক আছে। আমরা অনেকেই এমন পড়াশোনা করি, যা হয়তো বাস্তব জীবনে বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগে না। আমার নিজের মনে পড়ে, যখন প্রথম কাজ খুঁজতে বের হয়েছিলাম, তখন দেখেছি অনেক প্রতিষ্ঠানে যে দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে, তা আমাদের সাধারণ সিলেবাসে শেখানো হয়নি। ফলে, ডিগ্রি থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে চাকরি পেতে বেগ পেতে হয়। তৃতীয়ত, বিনিয়োগের অভাব। বিদেশি বিনিয়োগ যেমন কর্মসংস্থান তৈরি করে, তেমনি স্থানীয় ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য সরকারি সহায়তারও অভাব রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদি সরকার এই ছোট ব্যবসাগুলোকে এগিয়ে আসতে সাহায্য করে, তাহলে কর্মসংস্থান বাড়ানো অনেক সহজ হবে। আর চতুর্থত, সরকারি নীতিমালার ধারাবাহিকতার অভাবও অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে, যা পরোক্ষভাবে চাকরির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
A3: আমার মনে হয়, জাম্বিয়া যদি সত্যিই বেকারত্ব কমাতে চায়, তাহলে কিছু সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমার নিজের ধারণা এবং বিশ্বজুড়ে সফল মডেলগুলো দেখে যা মনে হয়েছে, তার কিছু দিক তুলে ধরছি। প্রথমত, অর্থনীতির বৈচিত্র্য বাড়ানো খুবই জরুরি। শুধু খনি শিল্পের ওপর ভরসা না রেখে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন, উৎপাদন খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। যখন একাধিক খাত শক্তিশালী হবে, তখন একটা খাতে সমস্যা হলেও অন্যগুলো ধাক্কা সামলে নিতে পারবে এবং চাকরির সুযোগও বাড়বে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। আমার বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদেরকে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান না দিয়ে ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানো উচিত, যা বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য দরকার। ভোকেশনাল ট্রেনিং, টেকনিক্যাল স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্প-ভিত্তিক কোর্স চালু করা গেলে তরুণরা চাকরির জন্য আরও প্রস্তুত হতে পারবে। যেমন, আমি নিজে যদি আরও আগে ডিজিটাল মার্কেটিং বা ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো কিছু শিখতাম, তাহলে আমার পথচলাটা আরও সহজ হতো। তৃতীয়ত, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SMEs) জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা দেওয়া উচিত। এই ছোট ব্যবসায়ীগুলোই কিন্তু অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমার নিজের পরিচিত অনেকেই আছেন যারা ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে পারেন না। যদি সরকার এই দিকটায় নজর দেয়, তাহলে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। চতুর্থত, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য নীতিমালা আরও সহজ ও স্থিতিশীল করতে হবে। আর পঞ্চমত, অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নতি করা গেলে নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে, যা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান বাড়াতে সাহায্য করবে। আমার বিশ্বাস, এই পদক্ষেপগুলো একসাথে নিলে জাম্বিয়া অবশ্যই বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।






